হিজামা ও এর উপকারিতাঃ

হিজামা কেন করবেনঃ

ব্লাড সার্কুলেশন বিষয়টা হলো হার্ট থেকে বিশুদ্ধ রক্ত ধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে ছড়ায় আর শিরার মাধ্যমে দূষিত রক্ত হার্টে নিয়ে যায় বিশুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু মাংশপেশীতে যে রক্ত থাকে সেটা প্রসেসিং হাওয়ার সুযোগ কম। কোনো কারনে আঘাতের ফলে যদি রক্ত জমে বা শরীর বৃত্তীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রক্ত দূষিত হলে হিজামা করলে ওই দূষিত রক্ত এবং বায়োনিক রস বেরিয়ে আসে ফলে রোগী সুস্থ্য হয় এবং মাংশপেশী ধমনী থেকে বিশুদ্ধ রক্ত শোষন করে সজীব হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটু বলি শুনুনঃ-

রাসুল সা: বলেছেন, হিজামা স্মৃতি বাড়ায়, চোখের দৃষ্টি উন্নত করে! কিন্তু কীভাবে?ভেবেছেন কখনো? ঠিক ধরেছেন, নাইট্রিক অক্সাইড দিয়ে (নিশ্চয় আল্লাহ ভাল জানেন)!

নাইট্রিক অক্সাইড একটি পাওয়ারফুল কেমিক্যাল মেসেঞ্জার।এটা একটা Neurotransmitter! যা নিউরোনাল কানেকশন তৈরিতে ভূমিকা রাখে! তাই স্মৃতিশক্তির উন্নতিতে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

চোখের দৃষ্টির প্রখরতার উপরে নাইট্রিক অক্সাইডের ভূমিকা নিয়েও ভুরিভুরি রিসার্চ করা আছে!ইবনে সিনা (৯৮০ – ১০৩৭ খ্রীস্টাব্দ) ছিলেন একাধারে প্রসিদ্ধ ইসলামিক দার্শনিক, স্কলার ও কবি, অন্যদিকে ছিলেন ইতিহাস বরেন্য চিকিৎসক। মনোরোগবিদ হিসেবে তার বিশেষ সুনাম ছিল। তাঁর লেখা ‘The Canon of Medicine’ সারা বিশ্বে টেক্সটবুক হিসেবে ব্যবহৃত হত। হিজামার উল্লেখ তিনি সেই বইয়ে করেছেন। মজার ব্যাপার ইবনে সিনা হিজামা বা ওয়েট কাপিং এবং ড্রাই কাপিং দুটোর ব্যবহারকেই উদ্বুদ্ধ করেছেন। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক, রক্ত পরিশুদ্ধিকারক এবং Deep Tissue Inflammation এর ক্ষেত্রে তিনি হিজামার উপকারিতার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। আরেক প্রসিদ্ধ চিকিৎসক আল রাজি( ৮৬৫ – ৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ) হিজামা এবং ড্রাই কাপিং কে ট্রেডিশনাল চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মানব সভ্যতার গোড়ার দিকে যেমন কাপিং থেরাপি ছিল, মানব সভ্যতা যখন উন্নতির চরম শিখড়ে উঠে যাচ্ছে, তখনও কাপিং থেরাপি একইভাবে কার্যকর। মানব সভ্যতার মহান এই আবিষ্কারকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমে কাপিং থেরাপি বা হিজামার আরো নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে এই প্রত্যাশা করছি

adminsashthokotha

Back to top