এন্টিবায়োটিক নাকি মরনফাদ??

একটু জ্বর জ্বর, হালকা কাশি, সর্দি হলে, অথবা ডায়রিয়া হলে আপনি ঔষধের দোকান থেকে Tab Azithromycin (Zimax বা zithrin), Cefixim (Cef3, Cefim3), Tab Ciprofloxacin (Ciprocin, Neofloxin) ইত্যাদি এন্টিবায়োটিক নিজে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তো সেবন করেনই, আশে পাশের মানুষকেও সেবন করার উপদেশ দেন। ঔষধ খাওয়ার পর সুস্থ হলেই আপনার মনে হয়েছে, ঔষধে কাজ করেছে। ফলে যতবার একই ধরনেএ উপসর্গ হয় ততবার আপনি ফার্মেসী থেকে উপরোক্ত ঔষধ কিনে খান। আপনাকে অনেক মানুষ অনুসরণ করে একই কাজ করে। আপনি অনেকের কাছে বাহবা পান, কারন আপনার কারনেই তাদের ডাক্তারের ভিজিট বেঁচে যাচ্ছে। শুধু কি তাই? আনুষঙ্গিক পরীক্ষা নিরীক্ষারও দরকার হচ্ছেনা। সবাই দারুন খুশী।

একটা দুঃসংবাদ দেই, আপনি শুধু নিজের না আপনার আত্মীয়, প্রতিবেশীদের ও ক্ষতি করছেন নিজের অজান্তে।

জেনে রাখুন, আপনার উপসর্গগুলো বেশিরভাগ সময়ে ভাইরাস দিয়ে সংঘটিত হয়, যা আপনা আপনিই ভালো হয়ে যায়। এখানে এন্টিবায়োটিকের কোন কেরামতি নাই, আর আপনার ও কৃতিত্ব পাওয়ার কিছু নাই।

কীভাবে ক্ষতি করছেন? তা বুঝবেন এমন এক সময়ে যখন আর কিছু করার থাকবেনা। অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আপনার শরীরে ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল শিখে ফেলে, এবং তাদের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন ব্যাকটেরিয়াও একই গুনপ্রাপ্ত হয়। এভাবে তারা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তো কমিয়ে দিচ্ছেই, পাশাপাশি সেই পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া অন্যদের শরীরে ঢুকে একইভাবে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

এভাবে একজনের শরীরে এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা লাভ করলে, সেটি অন্যের শরীরেও সংক্রামিত হচ্ছে। এভাবে মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। আর আমরা ধাবমান হচ্ছি ভয়াবহ পরিনতির দিকে।

একসময় আপনার শরীরে আর কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করবেনা৷ মৃত্যুর প্রহর গুনবেন শুধু। কিন্তু রেখে যাবেন সেই শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া, যা মৃত্যুর মিছিল বাড়াতেই থাকবে।

তাই,
১. অসুস্থ হলে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন
২. নিজে নিজে ফার্মেসী থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে খাবেননা।
৩. ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক শুরু করার ২-৩ দিনের মধ্যে উপসর্গ চলে গেলে, এন্টিবায়োটিক ছাড়বেননা। পূর্ণ ডোজ শেষ করুন।
৪. কোন বেলার ঔষধ যাতে মিস না যায় খেয়াল রাখবেন। দরকার হলে ঘড়ি বা মোবাইলে এলার্ম দিয়ে রাখবেন।

মোহাম্মদ আলমগীর
ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট।

adminsashthokotha

Back to top