Stress and it’s management!

স্ট্রেস থেকে নিজেকে রক্ষা করুন:

আধুনিক সমাজে স্ট্রেস শব্দটি দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শুধু দুশ্চিন্তা ও অ্যাংজাইটিকে স্ট্রেস বলা ভুল হবে। বরং আমাদের পারিপার্শ্বিক যেকোনো পরিবর্তন বা পাওয়া না পাওয়া; যা আমাদের মন ও দেহে সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে তাই স্ট্রেস। জীবনটা উপভোগ করতে হয় প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে, প্রতিটি ছোট্ট ছোট্ট স্মৃতি- আনন্দ উপলক্ষ্যে। কিন্তু অনেকেই যে কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা বা ভবিষ্যতে কি ঘটতে পারে এ আশঙ্কায় অযথা উৎকণ্ঠিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরকম ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা খুব জরুরী। কেননা এসবকিছুর সম্মিলনেই স্ট্রেস তৈরী হয়। এরকম পরিস্থিতি মানব দেহের আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ধ্বংস ডেকে আনে। স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ অনুসরণ করুন । আমাদের ২৪ ঘন্টার লাইফস্টাইলে মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে এটি মোকাবেলার অবশই কিছু উপায় আছে। স্ট্রেস লেভেল ম্যানেজ না করে কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর জীবন পাওয়া যাবে না।


স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টে যা করতে হবে:

আপনাকে কষ্ট দেয় বা অপনার উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে এমন ঘটনা বা পরিবেশ এড়িযে চলুন। পাশাপাশি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
– ‘এখন এবং এখানে’ থাকুন। অর্থাৎ অতীত ও ভবিষ্যত নিয়ে অযথা ভাবার দরকার নেই। আপনি যদি নেতিবাচক অতীত রোমন্থন করেন, তবে হতাশায় মিজ্জিত হবেন। কারণ আপনি এটি পরিবর্তন করতে পারবেন না । আর যদি আপনি ‘সবসময় ভবিষ্যতের’ পরিকল্পনা করেন তাহলেও আপনি নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। কারন ভবিষ্যতের ফলাফলটি জানেন না। বর্তমানে আপনি কোথায় ও কেমন আছেন এবং কি করছেন, সেটিই গ্রহন করুন।
– মাঝেমধ্যে শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে দূষণমুক্ত পরিবেশে ঘুরতে যান। বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহন করুন। সমুদ্র সৈকত, বন, বা পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন কাটান।
– প্রতিদিন ভোরে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। গভীরভাবে নি:শ্বাস নিয়ার সময় ৪ পর্যন্ত গণনা করুন, এরপর শ্বাস ধরে ৬ পর্যন্ত গণনা করুন। শ্বাস ছাড়ার সময় ৮ পর্যন্ত গণনা করুন। এ ব্যায়ামটি আপনার দেহ অ্যাসিডিক থেকে অ্যালক্যালাইন হতে সহায়তা করবে।
– যোগা ব্যায়াম, মেডিটেশন, গভীর মনযোাগের সাথে নামাজ বা প্রার্থনাও খুব কার্যকর উপায়।
– আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করুন। হাই ইনটেনসিভ ইন্টারভাল ট্রেইনিং (এইচ আই আই টি ) করতে পারলে সবচেয়ে ভাল।
– আপনার পরিবারের সদস্য বা খুব কাছের বন্ধুদের সাথে অবকাশ যাপনে যান।
– এগুলোর পাশাপাশি অবশ্যই আমার নির্দেশিত প্রাকৃতিক খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা জরুরী। এছারা কোলন পরিষ্কার রাখতে হবে। কোলনের স্বাস্থ্যের সাথে সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে।
বহুদিন ধরে স্টেসে ভুগলে (ক্রনিক স্ট্রেস) হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, স্ট্রোক, বদহজম, আলসার, ডায়াবেটিস, মাংসপেশি বা হাড়ের ব্যথা, অ্যালার্জির প্রকোপ, চুল পড়া এমনকি গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
সবসময় আশাবাদী হন এবং আপনার জীবন উপভোগ করুন!


স্ট্রেস নিয়ে আরো কিছু কথা:


দুই পদ্ধতিতে স্ট্রেসের প্রভাব কমবেশি শরীরের ছড়িয়ে পড়ে; তা হলো:

১। এন্ডোক্রিন বা হরমোন সিস্টেম
২। ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ সিস্টেম
আমাদের শরীরে হরমোনগুলির কার্যকারিতা সাধারণত একে অন্যের উপর পারস্পরিক ভাবে নির্ভরশীল, অর্থাৎ একটির বেশী বা কম নিঃসরণের উপর অন্যটির কাজ করা নির্ভরশীল। এই সম্পর্কগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্বিমুখী হওয়ায় শরীর জুড়ে হরমোনগুলির কাজ করার ধরণকে বিভিন্ন অক্ষ বা ধীরং বলা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে HPA axis (hypothalamic–pituitary–adrenal axis) এবং HPG axis (Hypothalamo-pituitary-gonadal axis) স্ট্রেস প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।
HPA axis সামগ্রিকভাবে শরীরের ক্রিয়া-প্রক্রিয়া,স্মৃতি, নতুন জিনিস শেখা, অনুভূতি, এমনকি ব্যাথা ও ঘুমের মতো প্রাথমিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলিও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রক্রিয়াটির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটলে তা বহুক্ষেত্রেই মন, চিন্তা ও স্বতস্ফুর্ততায় বিরুপ প্রভাব ফেলে। সেকারণে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

অন্যদিকে, HPG বা Hypothalamo-pituitary-gonadal axis মানুষের যৌনক্ষমতার স্বাভাবিক পরিণতি প্রাপ্ততার সাথে সাথে সমগ্রভাবে স্বাভাবিক থাকা, মানসিক সুখ-শান্তি ও কর্মদক্ষতা বজায় রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে testosterone ও Di-hydro Epiandrosterone হরমোনটির অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই দুই অক্ষ-ই শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক অবস্থায় পূর্ণ মাত্রায় বা সঠিক মাত্রায় কাজ করে এবং শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। আবার স্ট্রেস-এর কারণে এই দুই অক্ষ বেশি মাত্রায় কাজ করতে থাকলে কিছু হরমোন অধিক পরিমাণে ক্ষরণ হতে থাকে, তখন সমস্যা দেখা দেয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, ফলে নেগেটিভ ফিডব্যাক পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়ে এবং করটিসল জাতীয় হরমোন আরো বেড়ে স্ট্রেস-এর বিভিন্ন উপসর্গগুলি তৈরি করে।
Immune system বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কাজ হলো, শরীরকে সৈনিকের মতো পাহারা দেওয়া। বাধা-বিপত্তি যাই আসুক না কেন, সমস্ত শক্তি দিয়ে মালিককে রক্ষা করে যাবে। তবে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস তাৎক্ষণিকভাবে বা সুদূরপ্রসারী ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা আমাদের ভিতর থেকে আরো দুর্বল করে দেয়।

Dr.Mujibur Rahman M.D
Cardiologist & Naturopath

adminsashthokotha

Back to top