মাশরুম সম্পর্কে কিছু তথ্য:

মাশরুম কি?

মাশরুম অতি পরিচিত ও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাঔষধ।। একজন মালয়েশিয়ান বিজ্ঞানী যার নাম ডঃ লিম সিউ জিন। তিনি ১৯৮৩ইং-১৯৯৩ইং ১০ বছর শুধু মাশরুম নিয়ে গবেষণা করে দেখলেন যে,
পৃথিবীতে ৩৮,০০০ প্রজাতির মাশরুম আছে এর মধ্যে ৩৬,০০০ টক্সিন বা বিষ যা ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, খাওয়া তো দূরের কথা।
বাকি ২০০০ খাবারের উপযোগী। এর মধ্যে ১৮০০ সবজি হিসেবে খাওয়া যায় বাকি ২০০-র মধ্যে ঔষধী, গুণ আছে। এই ২০০ থেকে তিনি ৬ টি মাশরুম আলাদা করে নিয়েছেন যার মধ্যে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধি গুণ রয়েছে। এই ৬ টি মাশরুমকে তিনি টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে একটিতে রূপান্তরিত করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘গ্যানোডার্মা মাশরুম’ যা রেড মাশরুম
(লাল মাশরুম) নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর ১৯২ টি দেশে এই গ্যানোডার্মা মাশরুম পাউডার এবং ক্যাপসুল ফরমেটে পাওয়া যায়।

মাশরুমের ওষুধীগুণ :

১. মাশরুম নিম্নোক্ত উপাদান নিয়ে গঠিত যেমন-আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল। যা শরীরের ‘ইমুন সিস্টেম’কে উন্নত করে। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

২. মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম থাকায় এবং আশঁ বেশি থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও একটি আদর্শ খাবার।

৩.মাশরুমে আছে শরীরের কোলেস্টরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভষ্টটিন এবং এনটাডেনিন। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে হূদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ নিরাময় করা সহজ হয়।

৪. মাশরুমে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি, যা শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে অত্যন্ত সহায়ক।

৫. মাশরুমে আছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড ও লৌহ। ফলে মাশরুম খেলে রক্তশূণ্যতা দূর হয়। এছাড়া লিংকজাই-৮ পদার্থ থাকায় হেপাটাইটিস বি জন্ডিসের প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে।

৬. মাশরুমে আছে বি-ডি গন্ডুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন, যা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৭. মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকাতে, বর্তমানে এটি বিশ্বে এইডস প্রতিরোধ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৮. মাশরুমে ইলুডিন এম এবং এস থাকাতে আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারি।

৯. মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে গন্ডাইকোজেন থাকাতে শক্তিবর্ধন হিসেবে কাজ করে। তাই যৌন অক্ষম রোগীদের জন্য মাশরুম একটি উপকারী ওষুধ হিসাবে কাজ করে।

১০. মাশরুমে স্ফিঙ্গলিপিড এবং ভিটামিন বি-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ রাখে। তাই মাশরুম খেলে হাইপারটেনশন দূর হয় এবং মেরুদন্ড দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে।

১১. মাশরুমে আছে প্রচুর পরিমানে এনজাইম, যা হজমে সহায়ক রুচি বর্ধক ও পেটের পীড়া নিরাময়ক।

১২. মাশরুমে নিউক্লিক এসিড এবং এন্টি-এলার্জেন থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে।

এককথায় নিয়মিত মাশরুম অথবা মাশরুম মিশ্রিত খাবার খেলে মানবদেহের রোগ আক্রান্ত সেল গুলি ঘাম এবং পায়খানা পেশাবের সাথে বেরিয়ে যায় এবং সেখানে নতুন সেল’র জন্ম হয় যারা কারণে
মানুষ রোগ মুক্ত সুস্থ জীবন যাপন করতে পারে।

adminsashthokotha

Back to top