রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়গুলো জেনে নিনঃ

আপনার শরীরের কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম? অল্পতেই ঠান্ডা বা সর্দি, কাশি, জ্বর বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন? বা আপনার পরিবার পরিজনের কেউ কি এমন যে প্রায়শই বিভিন্ন অসুখে ভোগে? তাহলে এই পোস্ট আপনার জন্যই। শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে কিছু খাবারের বিকল্প নাই। আজকে আমরা সেই সবকিছু নিয়ে আলোচনা করব যা খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে কয়েককগুন। আর এই রোগ প্রতিরোধে বেশ কিছু খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভূমিকা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেই কি কি খাবার আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়…..

১) প্রোটিন জাতীয় খাবারঃ

প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বাড়ায়, রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি জোগায়। শরীররের রোগ প্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে উন্নত মানের প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল থেকে পেতে পারেন প্রচুর প্রোটিন। তবে অবশ্যই লাল মাংস এড়িয়ে যাবেন। কেননা ভালো প্রোটিনের যে উপকার, লাল মাংসে তা পাওয়া যায় না। প্রোটিনের এই ডোজ হচ্ছে শরীরের ওজনের প্রতি কেজির জন্য এক গ্রাম করে। অর্থাৎ, কারও ওজন যদি ৬৮ কেজি হয়, তবে দৈনিক তাঁর ৬৮ থেকে ৭০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন সেবন করা দরকার।

২) ভিটামিন সি জাতীয় খাবারঃ

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার দারুণ কার্যকর। ভিটামিন সি মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট। ভিটামিন সি-ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এই ভিটামিন পরিচিত ফল এবং বিভিন্ন শাকসবজি যেমন: আমলকী, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কাঁচা মরিচ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তবে যেহেতু আমাদের শরীর ভিটামিন সি জমা করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীর ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।

৩) ভিটামিন বি১২ জাতীয় খাবারঃ

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠতে ভিটামিন বি১২ জাতীয় খাবার দারুণ কার্যকর। বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার ও ডিমে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। তাই রোগ প্রতিরোধে এই ধরনের খাবারের বিকল্প নাই। তবে যাঁরা নিরামিষাশী, তাঁরা শরীরে ভিটামিন বি১২-এর অভাব পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সম্পূরক নিতে পারেন।

৪) জিঙ্ক জাতীয় খাবারঃ

শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি হলে রক্তে শ্বেতকণিকার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বাদাম, শিম, দুগ্ধজাত পণ্যে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি থাকে। মনে রাখবেন, শিশুদের ক্ষেত্রে জিঙ্কের পরিমাণ কমে গেলে তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তাই শিশুদের খাবারে জিংকের পরিমাম বাড়ানো উচিত বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের।

৫) নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমঃ
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে।শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছবে। তখন শরীরের কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে।

সুতরাং প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। মি: কল্লোল বলেন, এমন ধরণের পরিশ্রম করতে হবে যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে।

সুস্থ থাকুন, সব সময় হাসি খুশি থাকুন। শেয়ার করে আপনার বন্ধুকে জানাতে সহায়তা করুন।

adminsashthokotha

Back to top