বাচ্চাদের যত্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

★★বাচ্চা যত ছোটই হোক,তাকে ফিডারে সলিড খাওয়া দিবেন না।ছয় মাসে একদম লিকুইড দিলেও বাটি চামচে দেন বা স্পুন ফিডার ও ইউজ করতে পারেন।তবে একবার ফিডারে দেয়া শুরু করলে আর সহজে চামচে বা হাতে খেতে চাবে না।
১১-১২মাসে দাঁত উঠে গেল নিজের খাওয়ার সময় ভাত চিপে ছোট ছোট লোকমা করে মুখে দেন।একসময় নিজেই এভাবে খাওয়া শুরু করবে।

★★বাজারে অনেক রকম চিজ পাওয়া যায়,কিন্তু বাচ্চাদের জন্য Laughing Cow বেস্ট। বাটার Amul এরটা বেস্ট।দই বাসায় বানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন।
দোকানের কোন দই বাচ্চাদের জন্য আমার কাছে সেইফ লাগে নাই।

★★ঠান্ডা লেগে যদি নাক বন্ধ হয়ে যায় তো (অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে) ঘুমানোর ঠিক আগে আগে নেবুলাইজ করবেন।এতে কিছুটা আরামে ঘুমাবে।

★★নাক বন্ধ বা কাশি থাকলে রাতে ঘুমানোর সময় উচা বালিশে ঘুম পারাবেন।

★★রিইউজেবল কাপড়ের ডায়াপার কেনা আর টাকা পানিতে ফেলা,একই কথা (আমার মতে)।বাইরে থেকে কিছুই বুঝা যায় না,বাচ্চা পি করে ভিজার মধ্যে থেকে যায়।ফলে ঠান্ডা লাগার চান্স অনেক বেশি থাকে।

★★যেসব ছোট বাচ্চাদের মাথা ভিজে যায়,তাদেরকে বালিশ ছাড়া ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন।আর নিতান্তই বালিশ দেয়া লাগলে বালিশের উপর একদম পাতলা কাপড় দিন,কিছুক্ষন পর পর কাপড় বেশি ভিজে যাওয়ার আগেই কাপড় বদলিয়ে ফেলুন।

★★অনেক ছোট থেকে বিনা কারণেই ঘরের মধ্যে বাচ্চাকে মাঝে মাঝে জুতা বা মোজা পরিয়ে রাখেন।বিশ্বাস করেন,এতে শীতকালে অনেক কাজে দেয়।তখন বাচ্চা শখ করেই জুতা,মুজা পরবে।

★★বাচ্চার খাবার সাধ বদলানোর জন্য মাঝে মাঝে লেবু বা আচার দিন।সেরিলাক,ফিরনি এর মধ্যে আইসক্রিমও দিতে পারেন।তবে অবশ্যই ঠান্ডা না।ওভেনে গরম করে।আবার ভাতের মধ্যে একটু সস,খাওয়ার টেস্টি করে।

★★যত গরম হোক,বাচ্চাকে সব সময় পাতলা গেঞ্জি/ জামা পরিয়ে রাখুন,ছেলে হোক বা মেয়ে হোক।
ঘরে শুধু যদি আপনিই থাকেন,তারপর ও বাচ্চাকে খালিগায়ে কখনোই রাখবেন না।
আপনি নিজেও জানবেন না,এভাবে বাচ্চাকে আপনি কত টা বাজে অভ্যাস শিখাচ্ছেন।
ঘামে ভিজে গেলে, দরকারে ৩-৪বার গা মুছিয়ে কাপড় বদলে দিন,তাও খালি গায়ে উলঙ্গ কখনোই রাখবেন না।আপনার একার সামনেও না,অন্য মানুষ থাকলে তো নাই।

★★বাচ্চাকে দিয়ে কাজ করান,যত ছোটই হোক।ডায়াপার আনা বা ফেলানোর কাজ তাকে দিয়ে করান।আলমারি থেকে জামা/প্যান্ট আনা বা পাউডার/ লোশন নিয়ে আসা,ওকে করতে দিন।নিজের খেলনা বা অন্য কোন জিনিস অগোছালো করলে আদর করে বা দরকার হলে একটু কঠিন ভাবেই বাচ্চাকে দিয়ে সেটা গুছান।এক সময় নিজেই করবে।

★★খেলনার সব জিনিস শুধু মাত্র একটা ঘরে রাখবেন।বাচ্চা হাতে করে কোন খেলনা অন্য ঘরে নিয়ে গেলেও,আপনি বার বার তার হাত দিয়েই সেটা খেলার ঘরে নিয়ে যাবেন।এভাবে আপনার বাড়ি অগোছালো হবে না,আর বাচ্চা নিজের খেলার ঘর আলাদা ভাবে চিনবে।

★★যেখানে সেখানে,যে কোন রুমে,যে কারো সামনে বাচ্চাকে ঘুম পারাবেন না,যে কোন একটা রুমে নিয়ে যান,রাত হলে,,দরজা জানালা বন্ধ করুন,বাচ্চার কাপড় বদলান,দাঁত ব্রাশ করান,অভ্যাস থাকলে গা মুছিয়ে দিন বা গোসল করান (আমার মেয়েকে অনেক ছোট থেকে গরম কালে প্রতিরাতে ঘুমের আগে মাথা না ভিজিয়ে গোসল করাই) ,,বাথরুম করান।হালকা লাইট দিন,মশারি টাঙান,বাচ্চা যেন বুঝে,এটা তার ঘুমের সময়।এতে অল্প সময় এ সে ঘুমায় যাবে।

তবে দিনের বেলা আলাদা রুমে নিলেও দরজা জানালা খোলাই রাখবেন,আলো বাতাস ও আওয়াজ যেন পুরোপুরি আসে।পুরাপুটি সাইলেন্স এর মধ্যে ঘুমের অভ্যাস হয়ে গেলে একটা টু শ্বব্দেও বাচ্চার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার বদভ্যাস হয়ে যাবে।

★★প্রতিটা কাজ করার আগে,তার নাম বলুন।যেমন,চল আম্মু,আমরা ব্রাশ করতে যাই বা চল গোসল করি।
এভাবে,সময় মত ও নিজেই ওই কাজ করা শুরু করবে।
কি খাবার খাওয়াচ্ছেন,কি কালারের খাবার,কোন বেলার খাবার তার নাম বলুন।

★★আপনার বাচ্চা ব্যাথা পেলে হাউ মাউ শুরু করে দিবেন না,ব্যাথা পাওয়ার জন্য কখনোই তাকে বকবেন না,বা বলবেন না যে,ঠিক হইসে,মানা করসিলাম না।ঠিক হইসে ব্যাথা পাইস।
তাকে সাহস দিন,বলুন,কোন ব্যাপার না।কিচ্ছু হয়নি।পরে গেলে নিজে উঠে দাঁড়াতে দিন।বাচ্চারা ব্যাথা পেয়েই শিখে।
অন্য কারো মাধ্যমে ব্যাথা পেলে,”কে ব্যাথা দিয়েছে,তাকে পিট্টি করে দিব” টাইপ আল্লাদি কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।এভাবে চললে কিছুদিন পর বাচ্চার হাতে আপনিই মার খাবেন।

লেখা::
রুবাইয়াত ই তাবাস্সুম নম্রতা

adminsashthokotha

Back to top