দাঁত সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা..

বর্তমানে প্রায় দশ হাজারের অধিক অনুমোদিত বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক সমগ্র দেশের মানুষের মুখের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন। তারপরও কিছু রোগী মুখের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নানা কুসংস্কার, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বা মনগড়া ধারণা পোষণ করেন, যেমন-

দাঁত ওঠালে চোখের ক্ষতি

অনেকের ধারণা দাঁত ফেলে দিলে চোখের সমস্যা হয়। যদিও আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসায় দাঁত ফেলে দেওয়ার পর্যায়টি কমে এসেছে, তবুও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যেমন দাঁতের শেকড় বেশি নষ্ট হলে, দাঁতের অধিকাংশ নষ্ট হলে, অতিরিক্ত নড়ে গেলে, অর্থোডন্টিক চিকিৎসায় বা আক্কেল দাঁতের জটিলতাসহ বেশ কিছু কারণে দাঁত ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো প্রমাণ নেই যে, দাঁত উঠালে চোখের ক্ষতি হয়। রোগীর সুস্থতার জন্য বিশেষ প্রয়োজন হলে একজন অনুমোদিত চিকিৎসক সাধারণ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই দাঁত ফেলেন।

স্কেলিং-এ দাঁত নড়ে যায়:

সমগ্র বিশ্ব জোরালোভাবে তাগিদ দেয় যেন বছরে অন্তত একবার স্কেলিং করানো হয়। সঠিকভাবে ব্রাশ করার অভাব বা বিভিন্ন কারণে মুখের অভ্যন্তরের অনুকূল পরিবেশ পেলে দাঁতের গোড়াতে প্লাক ও পরবর্তী সময়ে পাথর জমলে সেটা দূর করার চিকিৎসার নাম স্কেলিং। বিশেষভাবে উদ্ভাবিত স্কেলার যন্ত্রের সাহায্যে এই চিকিৎসা দেওয়া হয় যা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ। তবে বেশি পাথর জমার কারণে পাথর সরে গেলে জায়গাগুলো সাময়িক ফাঁকা অনুভব হতে পারে, সামান্য শিনশিন করতে পারে বা একটু রক্তপাত হতে পারে। তবে, এ ধরনের সমস্যা ক্ষণস্থায়ী। স্কেলিং-এর ফলে মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা হয়, মাড়ি স্বাভাবিক থাকে, পাশাপাশি শরীরের অনেক রোগ প্রতিহত হয়। স্কেলিংয়ের ফলে দাঁত নড়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

শিশুদের দুধ দাঁতের চিকিৎসার প্রয়োজন নেই:

অনেকের ধারণা, শিশুদের দুধ দাঁতের স্থায়িত্ব কম বলে এখানে যতœ বা চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি বাবা-মা বা অভিভাবককে স্পষ্টভাবে মানতে হবে যে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সুস্থ দুধ দাঁতের শক্ত ভূমিকা রয়েছে। দাঁত ওঠার পর থেকেই মুখের যতœ ও পরিচর্যার বিষয়ে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই। পাশাপাশি যে কোনো অস্বাভাবিকতা যেমন দাঁতে গর্ত, কোনো দাগ, জিহ্বা বা অন্য কোথাও কোনো ঘা বা ক্ষত বা বাচ্চা ব্যথা বললে দ্রুত অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসক বুঝবেন কোন বয়সে কোন ব্যবস্থায় বাচ্চাদের সুচিকিৎসা দেওয়া যায়।

দাঁতের সব গর্তে ফিলিং করা যায়:

রোগীরা দাঁতে গর্ত বা ব্যথা নিয়ে এসে বলে ফিলিং করে দিতে। দাঁতের গর্ত থেকে যদি দাঁতের মধ্যকার নরম মজ্জা আক্রান্ত না হয় তবে সাধারণ ফিলিংয়ের মাধ্যমেই দাঁতকে সুস্থ করা সম্ভব। তবে যদি মজ্জা আক্রান্ত হয় তবে দাঁত রক্ষার একটাই চিকিৎসা পদ্ধতি আর সেটা হলো রুট ক্যানেল চিকিৎসা।

দাঁত বা মুখের চিকিৎসা:

অনেকেই মুখ গহ্বরের যে কোনো কষ্টে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ সেবন বা বিডিএস ডিগ্রিবিহীন অনুমোদনহীন চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন, যেখান থেকে তৎক্ষণাৎ বা দীর্ঘমেয়াদি অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই যাচাই করে অনুমোদিত চিকিৎসক বেছে নিতে সতর্ক হতে হবে।

adminsashthokotha

Back to top