লিভার ক্যান্সরের কারন, লক্ষণ ও প্রতিকারঃ


লিভার মানব শরীরের এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশের নাম। যদি কোন কারনে এইটি কাজ না করে বা বিলল হয়ে যায় তাহলে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে রক্ষা করতে আগে থেকে সচেতনতা দরকার।

লিভার ক্যান্সারের কারণঃ
বিভিন্ন কারণে লিভার ক্যান্সার হয়ে থাকে। তার মধ্য অন্যতম কিছু কারন আপনাদের জানার জন্য এখানে তোলে ধরা হলো।

১) ধুমপানঃ
অতিরিক্ত ধুমপানের ফলে এই ধরনের রোগ তথা লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

২) মাদক বা অ্যালকোহল সেবনঃ
যারা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করেন অথবা মাদক নিয়ে থাকেন, তাদের লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায় কমপক্ষে ৩০ গুন।

৩) হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণঃ
হেপাটাইটিস বি অথবা সি এর সংক্রমণের কারনে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

৪) জিনগত সমস্যাঃ
পরিবারের কোন ব্যক্তির লিভার ক্যান্সার থাকলে, বিশেষ করে বাবা মায়ের এই ধরনের রোগ থাকলে বাচ্চাদেরও লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫) পরজীবির সংক্রমণঃ
বিভিন্ন ধরনের পরজীবি রয়েছে, যাদের সংক্রমণে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণঃ

লিভার ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেগুলো পরিলক্ষিত হলে সহজেই বুঝা যায় যে উক্ত ব্যক্তি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো কি কি

১) পেটে কোণপিন্ড৷ বা ফোলাঃ
পেটে কোনপিন্ড হলে বা পেট অতিরিক্ত ফোলে গেলে এটি লিভার ক্যান্সারের একটি লক্ষণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

২) খিদে কমে যাওয়াঃ
এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের কমন সমস্যা হলো তাদের খিদে কম লাগে। সব সময় মনে হবে পেট ভরা আছে এইমাত্র বুঝি খাইলাম। এমন কি তাদের খাবারের রুচিও কমে যায়। কোনকিছুই খেতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

) দ্রুত ওজন কমে যাওয়াঃ
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যাক্তির ওজন দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে। কোন ভাবেই শত চেষ্টা করেও তারা ওজন বাড়াতে পারেন না।

৪) দীর্ঘদিন জন্ডিসে ভোগাঃ
দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিসে আক্রান্ত থাকলে সেই রোগী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই ধরনের রোগ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

৫) বমি বমি ভাবঃ
রোগীর যদি প্রায়ই এমন হয় যে বমি বমি ভাব হয় কিন্তু বমি না হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তি লিভার ক্যন্সারে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়াছেন।

৬) পেটে ব্যাথাঃ
ঘন ঘন পেটে ব্যাথা লিভার ক্যান্সরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।

৭) ক্লান্তি অনুভব করাঃ
এই ধরনের রোগীদের নিয়মিতভাবেই ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। বা তারা খুব অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে।

৮) মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়াঃ
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা খুব অল্পতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলতে পারে বা অতিরিক্ত চিৎকার চেচামেচি করতে পারে।

প্রতিকারঃ
চলুন জেনে এই ধরেনের রোগ থেকে কিভবে প্রতিকার পাওয়া যায়। কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো,,,,

১) লেবুপানিঃ
প্রতিদিন লেবু পানি পানের মাধ্যমে এই রোগ কিছুটা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কেননা লেবুতে প্রচুর ভিটামিন – সি থাকে, যা কিনা লিভারকে দূষণমুক্ত রাখতে দারুন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

২) গ্রিন- টিঃ
প্রতিদিনই সকালে ও বিকালে এক কাপ করে গ্রিন – টি পান করুন। এটি লিভারের ফাংশন ঠি রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৩) অ্যাপেল সিডার ভিনিগারঃ
প্রথমে এক কাপ গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন কোন খাবার আগে পান করতে পারেন। এইটা কয়েকমাস কন্টিনিউ করলেই দেখবেন, লিভারে জমে থাকা চর্বি সব গায়েব হয়ে গেছে। এটি ব্যবহারে ভাল ফল পাবেন।

৪) আদা পানিঃ
এক চা চামচ আদা গুঁড়া হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার পান করুন। এই পানীয় ১৫ দিনের মত খেলেই দেখবেন আগের চেয়ে যথেষ্ট সুস্থ বোধ করছেন। কারন এটি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াটাই বন্ধ করে দেয়। যার ফলে লিভার আস্তে আস্তে ঠিক হতে শুরু করবে।।

adminsashthokotha

Back to top