মোটা বা ওজন বাড়ানোর উপায়গুলো জেনে নিনঃ

পৃথিবী জুড়ে যেখানে গাল ভেঙে পেটের চর্বি কমিয়ে স্লিম হওয়ার জন্য মানুষ উঠে পরে লেগেছে , সেখানে মোটা হওয়ার জন্য টিপস? খুব অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? বড্ড বেমানান মনে হচ্ছে তাই না?? আপনি অবাক হলেও, অনেকেই কিন্তু হবেন না। বরং এই ওজন বাড়াবার টিপস গুলো তাঁর জন্য এক রকম স্বস্তির কারন হতে পারে। সে হয়তো এগুলোই খুজে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
শারীরিকভাবে ক্ষীণকায় বা হালকা পাতলা ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায়ই শোনা যায় কীভাবে যে মোটা হওয়া যায়, এত খাই কিন্তু মোটা হতে পারি না।।

শুধু আপনাদের কথা ভেবেই ওজন বাড়ানোর এই ১১টি উপায় নিয়ে হাজির হলাম।

১) সকালে উঠে বাদাম ও কিসমিস খানঃ

ওজন বাড়ানোর জন্য বাদাম আর কিসমিসের জুরি নেই। রাতে ঘুমাবার সময় সামান্য পানিতে আধ কাপ কাঠ বাদাম ও কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন ৷সকালে দেখবেন সেগুলো বেশ ফুলে উঠছে। তারপর সেগুলো মজা করে খেয়ে নিন। এইটা খুবই কার্যকরী ফল দিবে।

২) ঘুমান পরিমিতঃ

সুস্থ থাকতে ও দেহের ওজন বাড়াতে ঘুমের বিকল্প নাই। প্রতিদিন একই টাইমে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনিক কমপক্ষে ৮/৯ ঘন্টা ঘুমানোর ট্রাই করতে পারেন। প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পরে এক দেরঘন্টা ঘুমালে দেহের ওজন বাড়াতে দারুণ কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে।

৩) প্রচুর শাক সবজি ও ফল খানঃ

হয়তো ভাবছেন এগুলো তো ওজন কমাবার জন্য খাওয়া হয়, তাই না? ওজন বাড়াতেও কিন্তু এইগুলোই আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই ফল আর সবজি। এমন অনেক ফল আর সবজি আছে যেগুলো কিনা প্রচুর ক্যালরি সমৃদ্ধ । যেমন, আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঁচা কলা ইত্যাদি ফল ও সবজি খেলে নিশ্চই আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।
যদি এইসব করেও আপনার ওজন বৃদ্ধি না পায়, তাহলে অবশ্যই একজন ভালো ডাক্তারের সাথে পরামর্শ বা যোগাযোগ করুন। কেননা কোনও সুপ্ত অসুখ থাকলেও তার ফলে রুগ্ন ও ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারেন।।

৪) খাবারের পরিমাণ বাড়ানঃ

খাবারের পরিমাণ বাড়ানো মানেই কিন্তু একগাদা খেয়ে ফেলা নয়। আপনি যদি কম খাওয়ার কারণে রোগা হয়ে থাকেন, তাহলে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। এতে আপনার ওজন বাড়াতেই পারে। স্বাভাবিকভাবে যা খেয়ে থাকেন, তার মাত্র ৪ ভাগের ১ভাগ পরিমাণ খাবার প্রতিদিন বেশি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

৫) বারবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুনঃ

অনেকেই ভাবেন যে বারবার খেলে বুঝি ওজন বাড়বে। এই ধরনের ভাবনা মোটেও সঠিক নয়। বরং নিয়ম মেনে পেট ভরে খান। পেট পুরে খাওয়া হলে মেটাবলিজম হার কমে যায়, ফলে খাবারের ক্যালোরির অনেকটাই বাড়তি ওজন হয়ে শরীরে জমবে। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াটা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়, যারফলে ওজন বাড়ে।

৬) ডুবো তেলে ভাজা খাবার খানঃ

ডুবো তেলে ভাজা খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট। যার ফলে সেটা ওজন বাড়াতে সহায়ক। তবে সাথে প্রচুর তাজা শাক সবজির সালাদ রাখলে আরও ভালো ফল পাবেন।

৭) নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ

হয়তো ভাবছেন মানুষ জিমে যায় ওজন কমাতে, বাড়ানোর জন্য কেন যাবো তাই না ? কিন্তু আসল কথাটা হলো, কেবল মোটা হলেই হবে না। সাথে তৈরি করতে হবে সুগঠিত দেহ। তাই তো আপনি জিমে যাবেন পেশী তৈরি করতে, এবং পুরুষেরা ওজন বাড়াতে চাইলে এই জিমে যাওয়া আসলে খুবই উপকারী । পেশীর ওজন চর্বির চাইতে অনেক বেশী তো বটেই, তাছাড়া ব্যায়ামের ফলে খিদেও পাবে আর মন ভরে খেতে পারবেন। তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ট্রেনারের নির্দেশে ব্যায়াম করতে হবে। নাহলে হিতে বিপরীত হবার আশঙ্কা আছে।

৮) ভাতের ফ্যান খেতে পারেনঃ

সাধরণত ৯৮% মানুষই ভাতের ফ্যান ফেলে দেয়৷ ফ্যান ফেলে দিয়ে ভাতের স্টার্চের অনেকটাই চলে যায় ফ্যানের সঙ্গে। ওজন বাড়াতে চাইলে ভাতের ফ্যান ফেলা মোটেই উচিত নয়। কেননা এই ফ্যানই আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক উপকারী। এর ফলে ভীষণ উপকার হবে ওজন বাড়াতে। আতপ চালের ফ্যান ভাত মজাও লাগবে খেতে।।

৯) ঘুমাবার আগে দুধ ও মধু খানঃ

ওজন বাড়াবার জন্য একটা একটা খানের খুব ভালো কৌশল হলো, রাতের বেলা ঘুমাবার আগে অবশ্যই পুষ্টিকর কোন খাবার খাবেন। ঘুমাবার আগে প্রতিদিন এক গ্লাস ঘন দুধের মাঝে বেশ খানিকটা মধু মিশিয়ে খেতে পারলে এটি ওজন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১০) মেটাবলিজমের হার কমানঃ

মোটা হবার পেছনে যেমন ধীর গতির মেটাবলিজম দায়ী, তেমনি রুগ্ন স্বাস্থ্যের পেছনে দায়ী উচ্চ মেটাবলিজম হার। সুতরাং মোটা হতে গেলে প্রথমেই এই মেটাবলিজম হার কমাতে হবে। তাতে আপনি যে খাবারটা খাবেন, সেটা বাড়তি ওজন রূপে আপনার শরীরে জমার সুযোগ পাবে। তাই, মেটাবলিজমের হার কম রাখার জন্য প্রতিবেলা খাবারের পর লম্বা সময় বিশ্রাম করুন। খাবার পর কমপক্ষে ১ ঘণ্টা কোনও কাজ করবেন না।

১১) বিশেষ খাবার কিছু খাবার খানঃ

আপনার নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি অবশ্যই কিছু উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন খাবার যোগ করতে হবে খাদ্য তালিকায়, নাহলে ওজন বাড়বে কিভাবে? উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা না থাকলে এই খাবার গুলো খেতে পারেন অনায়াসে। যেমন- ঘি/ মাখন, ডিম, চিজ/ পনির, কোমল পানীয়, গরু-খাসির মাংস, আলু ভাজা, মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, মেয়নিজ ইত্যাদি।

এরপরেও যদি ওজন না বাড়ে তাহলে চিকিৎকের সাহায্যে শরীর পরীক্ষা করিয়ে দেখেন। অনেক সময় যদি কোনো রোগ পাওয়া যায়, তার চিকিৎসা করাতে হবে। পেটের অসুখ, কৃমি, আমাশয় অথবা কোনো সংক্রামক রোগ থাকলে পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করলেও ওজন কমে যেতে থাকে। অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলেও ক্রমাগত ওজন কমে যেতে থাকে। এমন হলে বিশ্রাম, নিদ্রা ইত্যাদি বাড়িয়ে রোগীকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে।

adminsashthokotha

Back to top