হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন ও প্রতিরোধের উপায়ঃ

হার্ট অ্যাটাক ও সচেতনতাঃ

হার্ট বা হৃদপিণ্ড আমাদের সারা শরীরের রক্ত সরবরাহ করে থাকে। রক্ত ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে সমস্ত শরীরে পৌছিয়ে দেয়। আর আমাদের শরীরের কোষগুলো সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে যা আমদের বেচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে coronary Artery ব্লক হতে পারে যার কারণে হার্ট অকেজো হয়ে যায়। একই কারণে আস্তে আস্তে হার্ট পাম্পিং অফ হয়ে যায়। যার ফলে শরীরে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আর এই জন্য শরীরের কোষগুলো অক্সিজেন সাপ্লাই ঠিক মত না পাওয়ার কারণে শ্বাস বা হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। হার্ট অ্যাটাক কে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসনও বলা হয়ে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক কি?

অতিরিক্ত মানুষিক চাপের কারণে বা উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেলে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বেড়ে যায়। যারফলে রক্তের মধ্যে কোলেস্টেরল জমাট বাঁধতে শুরু করে। এভাবে ফ্যাট জমা হতে হতে এক সময় আর্টারিগুলো ব্লক হতে শুরু করে যার ফলে হয়ে যায় হার্ট অ্যাটাক। এছাড়াও অতিরিক্ত মানুষিক চাপের কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ধমনীগুলো অধিক ক্রিয়াশীল হয়ে উঠে। যার ফলে Blood clotting হতে পারে। এমনকি Artery গুলোর গায়ে আস্তে আস্তে কোলেস্টেরল জমা হতে থাকে ফলে ধীরে ধীরে রক্ত চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। হয়ে যায় হার্ট অ্যাটাক।

হার্ট অ্যাটাকের কারণঃ

এবার চলুন জেনে নেই কি কি কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।
১) অতিরিক্ত মাত্রার তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার খেলে
২) সব সময় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে
৩) অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকলে
৪) রক্তে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ অধিক পরিমাণে বেরে গেলে
৫) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে
৬) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে
৭) অতিরিক্ত মাত্রার অ্যালকোহল সেবন করলে
৮) অতিরিক্ত ধুমপান বা মদ্যপান করলে
৯) অতিরিক্ত রেগে গেলে
১০) প্রচুর কাজের চাপে

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষনঃ

১) বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে।
২) বুকের বাম পাশে চিন চিন ব্যথা অনুভব হতে পারে
৩)পেট জ্বালা-পোড়া করতে পারে। বিশেষ করে পেটের উপরের অংশে জ্বালা-পোড়া বেশি হতে পারে।
৪) ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস হতে পারে।
৫) রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
৬) চোখে ঝাপসা দেখতে পারে।
৭) প্রচুর বমি হতে পারে
৮) শরীরে প্রচন্ড ঘাম ঝড়তে পারে।

হার্ট অ্যাটাকে করনীয়ঃ

১) জোরে জোরে শব্দ করে কাশি দিন।
২) লম্বা লম্বা শ্বাস নিন।
৩) শ্বাস নিন আবার কাশি দিন। এভাবে কয়েক সেকেন্ড করতে থাকুন
৪) হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বুঝতে পারলে রোগীকে দ্রুত অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাইয়ে দিন। কারন অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাধা রোধ করে।
৫) জিহ্বার নিচে Nitroglycerin spray দিতে পারেন।
৬) রোগীকে মানুষিকভাবে আস্বস্ত করুন। যে সব ঠিক আছে।
৭) দ্রুত একটি সুচ নিয়ে রোগীর দুই হাতের সবগুলো আংগুলের মাথায় ফুটো করে রক্ত বের করুন। কানের লতিও ফুটো করতে পারেন। রোগীকে বাঁচাতে এইটা দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়ঃ

১) ধুমপান বন্ধ করুন
২) অ্যালকোহল সেবন বন্ধ করুন আজই
৩) মাদক থেকে দুরে থাকুন
৪) কোন প্রকার মানুষিক চাপ নিবেন না।
৫) ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
৬) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
৭) রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
৮) নিয়মিত ব্যায়াম করুন
৯) শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমান।
১০) নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

adminsashthokotha

Back to top