নাইট্রিক অক্সাইড থিউরি

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করার পাশাপাশি তা সঠিকভাবে তার কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারে, সেজন্য এমন কিছু বস্তুও ঠিক করেছেন, যা পরিচালিত হতে ঐ বস্তুগুলোর প্রয়োজন। ঐ বস্তুগুলো ছাড়া পরিচালিত হওয়া তো দূরের কথা, ঐ বস্তুটিও সঠিকভাবে থাকতে পারবে না। তেমনি হচ্ছে মানব দেহ। এই দেহের মাঝেও আল্লাহ তাআলা এমন কিছু জিনিস রেখেছেন যার মাধ্যমে মানব দেহ বেঁচে থাকে।

নাইট্রিক_অক্সাইড_কি

আপনি যদি কোন Doctor অথবা কোন Medical পার্সোনালিটি অথবা কোন Educated পার্সন হয়ে থাকেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি হিজামা নিয়ে জানতে চান কিন্তু হিজামায় কিভাবে কাজ (Mechanism of Hijama) হয় সেটা কেউ আপনাকে বলে নি বা আপনি নিজেও এখনো জানতে পারেননি.!!

হয়তো শুনেছেন যে, হিজামার মাধ্যমে Naturally তৈরী হয়।

* নাইট্রিক অক্সাইড!!

কিন্তু সেই নাইট্রিক অক্সাইড কি ও কেন? সেটা আমরা অনেকেই জানিনা!!

আসলে, আপনি যদি হিজামার Mechanism ও হিজামায় Nitric Oxide এর ভূমিকা না জানেন। তাহলে আপনি আসল জিনিসটাই জানেন না!!

তাই আসুন আপাতত জেনে নেই, নাইট্রিক অক্সাইড কি ও কেন এবং এটা হিজামায় কিভাবে তৈরি হয়?

নাইট্রিক_অক্সাইডঃ

* নাইট্রিক অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ, যা শরীরে রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। এটা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই আবশ্যক বিষয়। আমাদের রক্তনালিগুলোর ভেতরের লেয়ারে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়। এছাড়াও মস্তিষ্কে ও শ্বেত রক্তকনিকাতেও এটা তৈরি হয়। এটার কাজের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন Miraculous molecule। সুস্থতার সাথে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শরীরের খুবি অপরিহার্য ও আশ্চর্য্য এক অণু(Miraculous molecule)-ই হল “নাইট্রিক অক্সাইড”। যা হিজামাতে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়!! কিন্তু, কিভাবে! সেটা পরে বলছি।

গত দুই দশকে নাইট্রিক অক্সাইড নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রায় 60,000 এর মত research করেছেন এবং তারা এটা মেনে নিয়েছেন যে, It’s the miracle molecule of life.

অর্থাৎ “নাইট্রিক অক্সাইড”কে বলা হয় জীবন রহস্যের “অলৌকিক অণু” ।

1998 সালে তো চিকিৎসার উপর প্রদত্ত নোবেল পুরস্কারটি তিনজন চিকিৎসা বিজ্ঞানীকে দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র নাইট্রিক অক্সাইডের ভূমিকা আবিষ্কার করার জন্য!

তারপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হচ্ছে Million ডলারের নাইট্রিক অক্সাইড Busting supplement বা ক্যাপস্যুল।

তাহলে Normally একটা প্রশ্ন জাগে যে, কি এমন কাজ করে এই নাইট্রিক অক্সাইড?!

হা,সুস্থতার প্রয়োজনে যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করে এই নাইট্রিক অক্সাইড! এটা আমাদের অস্তিত্বের জন্য খুবি Essential একটি উপাদান। যখন এটা আমাদের Body system এর মধ্যে হ্রাস পায় তখন এটা পুনরুৎপাদন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

কারন,এটি Cardio-vascular এবং Neuro system এর একটি গুরুত্বপূর্ণ Signal অণু হিসেবে কাজ করে।

নাইট্রিক অক্সাইডের কাজঃ

* আমাদের শরীরে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ল কোষ আছে।

এই কোষগুলোর একটির সাথে আরেকটির যোগাযোগ করার মাধ্যম হচ্ছে এই নাইট্রিক অক্সাইড গ্যাস। সত্য বলতে কি,এই নাইট্রিক অক্সাইড আমাদের শরীরের সকল Function কে প্রভাবিত করে।

স্বাভাভিক অবস্থায় শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের কাজ কী?

আমাদের জানতে হবে, শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের কাজ বা ভূমিকা কী? আমাদের শরীর যখন পরিমিত মাত্রায় নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে তখন আমাদের ব্লাড প্রেশার কম থাকে, পুরুষাঙ্গের ভাল ইরেকশান হয়, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি কম থাকে, গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রনে থাকে। যথা ঃ

১. নাইট্রিক অক্সাইড নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে। এটা মস্তিষ্কে Nerve Cell গুলোর মধ্যে তথ্য প্রেরণ করে স্মৃতিশক্তি ও আচরণ Regulate করতে সাহায্য করে!

২. এটা Bacteria ‘র সাথে যুদ্ধ করে এবং Tumar সৃষ্টিতে বাঁধা প্রদান করে।

৩. ইহা শরীরের প্রতিরক্ষা সিস্টেম উন্নত করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা(immunity power) বাড়ে।

৪. এটা ধমনী Dilating দ্বারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. প্রদাহ বা ব্যথার অনূভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে বা কমিয়ে দেয়। তাই বলা যায়, সকল প্রকার ব্যাথা কমাতে নাইট্রিক অক্সাইডের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

৫. এটা ঘুমের উন্নতি ঘটায়, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘Sound Sleep’।

৬. ইন্দ্রিয় শক্তি বৃদ্ধি করে। যেমনঃ দৃষ্টিশক্তি,ঘ্রাণশক্তি,শ্রবণশক্তি ইত্যাদি।

৭. শুনে অবাক হতে পারেন। কিন্তু, Research এমনটাই বলছে, এটি ধৈর্য্যশক্তিও বৃদ্ধি করে।আসলে, হিজামার সময় যে ছোট ছোট Puncture গুলো করা হয় সেগুলো সহ্য করাও ধোর্য্যশক্তি বৃদ্ধির একটা কারন।

৮. নাইট্রিক অক্সাইড Blood circulation বৃদ্ধি করে এবং এর পরিমাণ ঠিক থাকলে Blood pressure ও স্বভাবিক থাকে। সেই সাথে কম রক্ত সরবরাহের কারণে affected টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

৯. নিউরো-ট্রান্সমিটার হিসেবে মসৃণ পেশী, গ্যাস্ট্রো- ইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট এবং ইরেক্টিল (প্রজনন) টিস্যুতে নাইট্রোজেনিক নিউরনে নাইট্রিক অক্সাইড প্রচুর কাজ করে।

১০. নাইট্রিক অক্সাইড (NO) ভ্যানকুলার মসৃণ পেশী সংকোচন ও প্রসারণ করে। এটা শ্বেতরক্তকণিকা (WBC) এবং এন্ডোথেলিয়ামের Platelet রক্তকণিকা বৃদ্ধি করে Heamostasis এ অবদান রাখে।

১১. ডায়াবেটিস ও Hypertension নিয়ে মানুষ কোন পথ পাচ্ছেনা, খেয়েই যাচ্ছে ঔষুধ। ফলশ্রুতিতে Kidney ও Liver Damage এবং শরীরে পানি আসা!! অথচ শরীরের প্রয়োজনীয় নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হলে গ্লুকোজ Level কম থাকে! (ডায়াবেটিস নিয়ে পড়ে আরো লেখা হবে, ইনশা আল্লাহ।)

১২. নাইট্রিক অক্সাইড (NO) ফসফ্র্যরলেটিনে পরিণত হয় যা মসৃণ পেশীতে শিথিলতা আনয়ন করে। যা Muscle spasm বা মাসল স্ট্রেচিং হলে খুবি ফলদায়ক প্রতিকার দেয়। যেটা এখন খেলোয়াররা খুবি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে।তাই, সচেতন খেলোয়ার ও Body builder’দের মাঝে হিজামা Therapy নিতে এখন হুড়োহুড়ি অবস্থা!!

১৩.এটা Irregular cell division কে regulate করে। ফলে ক্যান্সারের চিকিৎসায় এই নাইট্রিক অক্সাইড থেরাপি ভাল Response করে।

এছাড়াও Infertility বা বন্ধাত্ব, পুরুষত্বহীনতা (ED) সহ প্রজনন, Irregular means বা মাসিকের সমস্যার জন্য এটা চমৎকার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে।

১৪. ক্যান্সার সেল এর এ্যাপোপটোসিস (কোষের স্বাভাবিক ফিজিওলজিক্যাল মৃত্যু) ও সুস্থ কোষের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

১৫. চুল পড়া কমায়।

শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড কমে গেলে কি ফলাফল হতে পারে বা হয়?

১। হাইপারটেনশান (HTN, হাই ব্লাড প্রেশার)-

[হাই প্রেশারের রোগীরা যে নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট বা স্প্রে ইউজ করে সেটাই নিট্রিক অক্সাইডে কনভার্ট হয়, তারপর হাইপ্রেশার নিয়ন্ত্রন করে।]

২। কার্ডিও ভাস্কুলার ডিজিজ, হার্ট ব্লক, এ্যাথেরো স্ক্লেরোসিস।

৩। যৌন সমস্যা (ইরেক্টাইল ডিসফাংশান, লো লিবিডো বা যৌনকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া প্রভৃতি)অর্থাৎ পুরুষাঙ্গের ইরেকশান নাইট্রিক অক্সাইডের ওপর নির্ভর করে।

৪। ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা।

৫। ফ্যাটিগ বা অল্প কাজেই দূর্বল লাগা।

৬। এ্যাংজাইটি, টেনশান।

৭। ডিপ্রেশান।

৮। ডায়াবেটিস।

এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া সহ আরো অনেক সমস্যা।

নাইট্রিক অক্সাইড কমে যাওয়ার কারন কি?

১। সিগারেট স্মোকিং মজার ব্যাপার হচ্ছে সিগারেট স্মোকে নাইট্রিক অক্সাইড থাকে যা সরাসরি রক্তে মিশে গিয়ে ব্লাড ভেসেলকে রিল্যাক্স করার কথা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে স্মোক এর মধ্যকার কিছু মলিকিউল অক্সিডেন্ট ইনডিউসড এন্ডোথেলিয়াল ট্রমা করে রিল্যাক্সেশান করে। আর স্মোকের মধ্যকার নাইট্রিক অক্সাইডকে ডিগ্রেডেশান করে দেয়। তাই স্মোকিং রক্তনালীকে পার্মানেন্টলি ড্যামেজ করে ও ফ্যাট ডিপোজিশান করে। তাই সিগারেট খেলে একটা টেমপোরারি রিল্যাক্সেশান হয় ঠিকই, কিন্তু এটাই পরবর্তীতে হাইপারটেনশান করে।

২। মাউথওয়াশ ইউজ মাউথওয়াশ মুখের ভাল ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলে, তাই ন্যাচারালি নাইট্রিক অক্সাইড প্রডাকশান কমে যায়।

৩। বয়স বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাইট্রিক অক্সাইড প্রডাকশান কমতে থাকে।

৪। স্থূলতা মোটা হয়ে গেলে , কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে অর্থাৎ শিরার ভেতরের (এন্ডোথেলিয়ামে) লেয়ারে ফ্যাট ডিপোজিশান হলে।

৫। কায়িক শ্রম ব্যায়াম বা কায়িক শ্রম কম করলে নাইট্রিক অক্সাইড প্রডাকশান কমে যায়।

৬। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কমে যায়। এছাড়াও নিয়মিত পেইন কিলার ড্রাগ ও এন্টিবায়োটিক সেবন করলে বা শরীরের Immunity কমে গেলে প্রভৃতি কারনে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বাধাগ্রস্থ্য হয়। আবার, শরীরে টক্সিন বেড়ে গেলে, Diabetes হলে নাইট্রিক অক্সাইড ব্রেক ডাউন হয়। ফলে, আমরা বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে সহজেই আক্রান্ত হই!!

* শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করার কি কি উপায় আছে?

নাইট্রিক অক্সাইডের অস্বাভাবিক কার্যাবলী দেখে হয়তো ভাবছেন যে, কিভাবে পাওয়া যায় এই যৌগ? এর মূল উৎস কি?

১। নাইট্রেট- নাইট্রাইট- নাইট্রিক অক্সাইড পাথওয়ে যখন আমরা নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাই তখন এই নাইট্রেট পরিবর্তিত হয়ে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। আমরা যখন খাবার খাই, তখন চর্বন ও জিভের নাড়াচাড়ার কারনে, এরপর পাকস্থলিতে ও অন্ত্রে খাবারের সাথে লালা ও জিভের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার মিশ্রন ঘটে।

২। সাইট্রুলিন – আরজিনিন – নাইট্রিক অক্সাইড – সাইট্রুলিন পাথওয়ে আমরা যখন সাইট্রুলিন রিচ খাবার খাই তখন এটা আরিজিনিন এ কনভার্ট হয় যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি এর পূর্বাবস্থা। আরজিনিন থেকেই পরে নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেসিস হয়।

৩। অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে যে, হিজামায় প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরী হয় নাইট্রিক অক্সাইড!! কিন্তু কিভাবে!!

আমরা জানি, হিজামার সময় শরীরে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র (wound/injury) করা হয়। আর, এই ক্ষত(Wound) নিরাময়ের সময় Naturally Nitric Oxide তৈরি হতে থাকে। এই Nitric oxide এর মাধ্যমেই হিজামা সব রোগের প্রতিশেধক ও প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে থাকে।

মূলতঃ হিজামার সময় স্কিন সারফেসের ওপর খুবি সুক্ষভাবে ছোট ছোট ডীপ স্ক্র্যাচ করা হয়। এই সুক্ষ স্ক্র্যাচ গুল শুধুমাত্র স্কিন ও স্কিনের বেইজমেন্ট মেমব্রেনের মধ্যকার ক্যাপিলারি গুলোকে জাস্ট ইনজুরি(পাংচার) করে। ইনজুরীর ফলে সেখানে ইনফ্ল্যামেশন হয়ে তাতে হাইপারমিয়া ও হিমোস্টোসিস প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং নাইট্রিক অক্সাইড মুক্ত হয়। এন্ডোথেলিয়াম থেকে নিঃসৃত এই নাইট্রিক অক্সাইড ইনফ্ল্যামেটরী মেডিয়েটরস গুলোর মধ্যে অন্যতম। এই নাইট্রিক অক্সাইডই মূলত রোগ নিরাময়ের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

এতে বুঝা গেল, হিজামা বা ওয়েট কাপিং থেরাপী হিজামা করার সময় যে ছোট ছোট স্ক্র্যাচ করা হয় এগুলো স্কিনের ঠিক নীচের বেইসমেন্ট মেম্ব্রেন এর ক্যাপিলারি গুলো পাংচার করে। এটা এতই সুক্ষ যে ব্যাথাই লাগে না। একটু সুড়িসুড়ির মত অনুভুতি হয়। এই ক্যাপিলারি বা ছোট ছোট ব্লাড ভেসেলগুলো পাংচারের ফলে এর এন্ডোথেলিয়াম থেকে নিঃসৃত হয় নাইট্রিক অক্সাইড। এই নাইট্রিক অক্সাইডই মূলত রোগ নিরাময়ের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

* এই নাইট্রিক অক্সাইড নিয়ে ইদানিং আমরা হৈচৈ করছি?! অথচ!!

অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে যে, আজ থেকে সাড়ে ১৪০০ বছর আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে হিজামা করিয়েছেন ও অন্যদের করতে বলছেন।

মিরাজের রাতে মুহাম্মদ (সা:)কে ফেরেস্তারা আশ্চর্য এই চিকিৎসার খবর দিয়েছিলেন, যা সকল রোগের চিকিৎসাই কম/বেশ কাজ করে।

ইবনে মাসউদ (রা:) হতে বর্ণিত অাছে,তিনি বলেন, মিরাজের রাত প্রসঙ্গে রাসুল(সা:) বলেছেন, এই রাতে ফিরিশতাদের যে দলের সম্মুখ দিয়েই আমি যাচ্ছিলাম তারাই বলেছেন,”হে মুহাম্মদ!(সা.) আপনার উম্মত কে হিজামার নির্দেশ দিন।”

(সহিহ ইবনে মাজাহ,হা/৩৪৭৭,সহিহ আত তিরমিযী হা/২০৫২)।।

রাসুলুল্লাহ সা.আরো বলেন,” জিব্রাইল আ. আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যত উপায় অবলম্বন করে তন্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।”।

[আল-হাকীমঃ হাদীস নং-৭৪০

একটু ভেবে দেখুন…রাসুলুল্লাহ (সা:) যে চিকিৎসাকে বলেছেন,”Best of all treatment.

(সহিহ মুসলিম হা/৩৯৩০)।

সেটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে!!

অবশ্যই এতে জ্ঞানীদের জন্য চিন্তা ও গবেষনার যথেস্ট উপাদান রয়েছে।।

নিচের হাদীসটি পড়লে অবশ্য আপনাদের জন্য বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হবে।।

রাসুল (সা:) বলেছেন,”প্রতিটি রোগের প্রতিকার রয়েছে।অতএব, কোন রোগের যথাযথ ঔষধ প্রয়োগ করা হলে অাল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য লাভ হয়।”

(সহিহুল বুখারী হা/৫৬৯৭,সহিহ মুসলিম হা/৫৬৩৪)

adminsashthokotha

2 thoughts on “নাইট্রিক অক্সাইড থিউরি

Comments are closed.

Back to top