অ্যাসিডিটি দুর করবেন যেভাবেঃ

অ্যাসিডিটি কেন হয়

অ্যাসিডিটি সমস্যায় কম বেশি প্রতিটি নারী পুরুষই ভোগে থাকেন। আমাদের পাকস্থলীতে বা ভারসাম্যহীন এসিড উৎপত্তি হওয়ার কারনে পেট ব্যথা, গ্যাস, বমি বমি ভাব, মুখে দুর্গন্ধ বা আরও অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার কারণে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস নিদ্রাবিহীনতা বা দুঃচিন্তা, কায়িকশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত মদ্য পানের ফলে অ্যাসিডিটি হতে পারে।

অ্যাসিডিটি দুর করার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

এটি এটি থেকে মুক্তির জন্য মোটামুটি সাবাই ডাক্তারের দারস্থ হয়ে থাকেন বা ওষুধের সাহায্য নিয়ে থাকেন। আর এইটার মূল কারন হলো আমরা জানি ই না যে ঔষধ ছাড়াও কিছু প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমেই (যেগুলো কিনা আমাদের রান্না ঘরেই পাওয়া যায়) সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ঔষধ তৈরি করেও এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আসুন জেনে নেই সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে অ্যাসিডিটি নিরাময়ের অসাধারন কিছু কৌশল।
১)গরম পানিঃ
সাধারণত কুসুম গরম পানি রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস আর সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে আরকে গ্লাস খেতে পারলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও যেকোন সময়ই গরম পানি এই সমস্যা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২)দারুচিনিঃ
দারুচিনি হজম ক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। এটি হজমের জন্য এন্টিবায়োটিকের মত কাজ করে থাকে। কেননা এটি একটি প্রাকৃতিক এন্টাসিড যা পেটের সমস্যা দুর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এক কাপ পানিতে আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে দিনে ২/৩ বার খেলে পেটের গ্যাস দুর হয়ে যাবে। এছাড়া চাইলে এটি সুপ বা সালাদে দিয়েও খেতে পারবেন।
৩) পুদিনা পাতাঃ
পুদিনা পাতার বায়ুনিরোধক ও প্রশান্তিদায়ক গুন নিমিষেই বুক ও পেট জ্বালাপোড়া করা, পেট ফাঁপা ও বমিভাব দুর করতে সক্ষম। তাই অ্যাসিডিটি দেখা দিলেই কয়েকটি পুদিনা পাতা মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারেন। এতে অ্যাসিডিটি কমে যাবে খুব সল্প সময়ের মধ্যেই। এছাড়াও পুদিনা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি সমস্যায় ভাল কাজ করে।

৪) আপেল সাইডার ভিনেগারঃ
এর ক্ষারধর্মী প্রভাব পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি দূরীকরণে মারাত্মক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ১/২ চা-চামচ অশোধিত ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খাবার আগে খেলে অ্যাসিডিটি দুর হবে। অথবা যেকোন সময় তবে দিনে এক বা দুইবার খাওয়া যেতে পারে।

৫) জিরাঃ
পাকস্থলীর অ্যাসিডিটিকে নিরপেক্ষ করে পেটের ব্যাথা দুর করতে এবং হজম ক্রিয়া জিরা চমৎকার কাজ করে। দের কাপ পানিতে এক চা চামচ করে জিরা, ধনে ও মৌরী গুড়ো তার সাথে সামন্য চিনি খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি দুর হবে। অথবা এক গ্লাস পানিতে সামান্য জিরার গুড়া মিশিয়ে বা ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রতিবার খাবারের পরে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

৬)আদাঃ
আদার রস পাকস্থলীর এসিডকে দ্রুত প্রশমিত করতে সাহায্য করে। তাই অ্যাসিডিটির সময় আদা পিষে খেলে খুব উপকার পাওয়া যাবে। অথবা এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে চুষলেও কাজ হবে। এছাড়াও এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে সেটা ফুটিয়ে পান করতে পারেন। কিংবা শুধু এক চা চামচ করে আদার রস দিনে ২/৩ বার খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৭) ঠান্ডা দুধঃ

এটি পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে এসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীর এসিড তৈরীতে বাধা প্রদান করে। শুধুমাত্র এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করেই এসিডিটির সমস্যা প্রতিরোধ বা উপশম করা সম্ভব।

সতর্কতাঃ

পরবর্তীতে যখনই আপনি অ্যাসিডিটির সমস্যায় পরবেন তখনই সাথে সাথে এইসব পদ্ধতিগুলোর সাহায্য নিয়ে দেখতে পারেন। তবে যদি দেখেন যে ২/৩ দিন পরও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

adminsashthokotha

2 thoughts on “অ্যাসিডিটি দুর করবেন যেভাবেঃ

Comments are closed.

Back to top